একটা সময় বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণ বিখ্যাত ছিল স্পিন আক্রমণের জন্য। রফিক, এনামুল জুনিয়ার, সাকিব থেকে হালের তাইজুল সবাই এই জায়গায় বাংলাদেশের হাল ধরেছেন।
তবে দিন বদলে গেছে, বর্তমানে পেস বোলিংয়েও সেরাদের সেরা বাংলাদেশ দল। আর তার প্রভাব পড়েছে বিপিএলেও। দেশী পেসারদের সাথে বিদেশী পেসারদের মিলনে বিপিএলের দলগুলো পেস বোলিংএ আনছে নতুন বিপ্লব।
এই যেমন প্রথমবারের মত ফ্রাঞ্চাইজী পেয়েই পেস বোলিংকে যেন বিশ্বমানের করেছে সিলেট ফ্রাঞ্চাইজী।
দেশী বোলারদের মাঝে দলটিতে আছে লোকাল বয় খালেদ আহমেদ, এবাদত হোসেনরা, যারা গতির সাথে সুইং দিয়ে পরাস্ত করতে পারেন ব্যাটসম্যানদের। এর বাইরে দেশী শহিদুল ইসলাম, রুয়েল মিয়াদের নিয়েই শক্তিশালী পেস বোলিং লাইনআপ সম্ভব।
তবে এর সাথে সিলেট দলে নিয়েছে মোহম্মদ আমির, সালমান ইরশাদ, আজমতউল্লাহ ওমরজাই এর পেসারদের।
সাথে লুক উডের সাথেও চলছে আলোচনা। বিপিএলে এমন এক পেস বোলিং এট্যাক যেন সেরা নয়, বিস্ময়েরও বটে।
তবে কম নয় রাজশাহীও। সরাসরি চুক্তিতে থাকা তানজিম সাকিব আছেন, নিলাম থেকে এসেছেন সাকলাইন, রিপন মন্ডলের মত ইনফর্ম পেসার।
এদের সাথে আছেন বিনুরা ফার্নান্দো, জাহানদাদ খানের মত বিদেশী পেসার। সব মিলিয়ে এই পেস বোলিং লাইনটাও বেশ ভারসাম্যপুর্ণ
কোনদিকেই পিছিয়ে নেই রংপুর, পেস বোলিং তার ব্যাতিক্রম নয়। ফিজ, নাহিদ রানাদের মত বিশ্বমানের দেশী বোলার আছেন, ফাহিম আশরাফ, কাইল মায়ার্সরাও বাংলাদেশের মাঠে পরীক্ষিত। সাথে কামরুল রাব্বি, হালিম, মৃত্যুঞ্জয়ের মত ব্যাকাপ আছে দলে। নিসন্দেহে এই পেস বোলিংটাও বেশ সারাজাগানীয়া পেস বোলিং লাইনআপ।
ঢাকা ক্যাপিটালসেও কমতি নেই। তাসকিন, মারুফ মৃধা, সাইফুদ্দিনরা আছেন, তোয়াফেল, শানাকা, মামুনের মত আছে পেস বোলিং অলরাউন্ডার।
অপরদিকে জিমি নিশামকে ভিড়িয়ে পেস বোলিংকে আরো মজবুদ করলো নোয়াখালী। দলে আছেন হাসান মাহমুদ, মুশফিক হাসানের মত গতি ও সুইংময় পেসার, রেজাউর রাজা ও মেহেদী রানা ঘরোয়া আসরের নিয়মিত মুখ। এদের সাথে পাকিস্তানি গতিতারকা ইহসানউল্লাহ দলের শক্তি বাড়িয়েছেন অনেক।
তবে অন্য সবকিছুর মত কমতি চট্টগ্রাম রয়ালসে। এক শরীফুল বাদে সেরকম ভরসা করার মত পেসার নেই, আবু হায়দার ও মুকিদুল মুগ্ধ ঘরোয়া আসরে নিয়মিত মুখ, তবে হায়দারের ফর্ম নিয়ে আছে দুশ্চিন্তা। এই তিনের বাইরে সুমন খান, জিয়াউর রহমানের উপর ভরসা করতে হবে তাদের। তবে শরীফুল, মুগ্ধরা ফর্মে থাকলে এই পেস বোলিংটাকেও ফেলে দেওয়া যায়না।
সব মিলিয়ে বিপিএলে সেরা পেস এট্যাক সিলেটের, কাগজে কলমে সেটা প্রমাণিত। রাজশাহী, রংপুর আসবে এরপরের তালিকা। আর ঢাকা ও চট্টগ্রামের পেস বোলিংকে খারাপ না বলা গেলেও অন্য দলের তুলনায় কিছুটা দুর্বল তারা। তবে অন্য সব আসরের চেয়ে এবার পেস বোলিং এট্যাকগুলো ব্যাটসম্যানকে বড় পরীক্ষা নিবে, সেটা বলাই যায় নিসন্দেহে।




