সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ–ভারত ক্রীড়াঙ্গন নিয়ে উত্তেজনা নতুন কিছু নয়। আইপিএল থেকে মুস্তাফিজকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় যে আলোচনা শুরু হয়েছিল, তা পরবর্তীতে গড়ায় বাংলাদেশের বিশ্বকাপে না যাওয়ার বিতর্ক পর্যন্ত। দুই দেশের ক্রীড়া সম্পর্ক নিয়ে তখন ব্যাপক সমালোচনা ও প্রশ্ন ওঠে। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই এবার ফুটবলেও ঘটলো একই রকম এক বিতর্কিত ঘটনা।
মুস্তাফিজের ঘটনার মতোই এবার ভারতীয় ক্লাব কেরালা ব্লাস্টার্সের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলছেন বাংলাদেশের ফুটবলার তারেক কাজী। আইএসএলের অন্যতম জনপ্রিয় এই ক্লাবটি তাকে দলে নেওয়ার আগ্রহ দেখিয়েও শেষ মুহূর্তে নিজেদের সিদ্ধান্ত থেকে সরে দাঁড়িয়েছে।
কিছুদিন আগেই বসুন্ধরা কিংসের সঙ্গে পারস্পরিক সমঝোতায় চুক্তি বাতিল করেন তারেক কাজী। এরপর তিনি নতুন ক্লাবে খেলার প্রস্তুতি নিতে থাকেন এবং নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। ঠিক সেই সময়ই ভারতের আইএসএল ক্লাব কেরালা ব্লাস্টার্স তার সঙ্গে যোগাযোগ করে। ক্লাব কর্তৃপক্ষ সরাসরি তাকে দলে নেওয়ার প্রস্তাব দেয় এবং দুই পক্ষের মধ্যে একাধিক দফা আলোচনা হয়।
প্রাথমিকভাবে সবকিছু ইতিবাচক থাকায় সেই প্রস্তাবে সম্মতি জানান তারেক কাজী।
মৌখিকভাবে চুক্তির বিষয়টি চূড়ান্ত হয় এবং খুব দ্রুত আনুষ্ঠানিক চুক্তিপত্র পাঠানো হবে—এমন আশ্বাসও দেওয়া হয় ভারতীয় ক্লাবের পক্ষ থেকে। সেই বিশ্বাসেই অন্য সব ক্লাবের সঙ্গে আলোচনা বন্ধ করে দেন বাংলাদেশের এই ডিফেন্ডার। এমনকি মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার কয়েকটি ক্লাবের আগ্রহও ফিরিয়ে দেন তিনি।
তবে ঘটনার নাটকীয় মোড় আসে শেষ মুহূর্তে। চুক্তিপত্র পাঠানোর আগেই হঠাৎ করেই নিজেদের প্রস্তাব প্রত্যাহার করে নেয় কেরালা ব্লাস্টার্স। কোনো নির্দিষ্ট কারণ জানানো হয়নি, এমনকি আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যাও দেওয়া হয়নি তারেককে।
এই সিদ্ধান্তে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তারেক কাজী নিজেই। ট্রান্সফার উইন্ডোর গুরুত্বপূর্ণ সময় পার হয়ে যাওয়ায় তিনি নতুন ক্লাব খোঁজার সুযোগও হারান। দীর্ঘদিন মাঠের বাইরে থাকার শঙ্কায় পড়েন জাতীয় দলের এই নির্ভরযোগ্য ডিফেন্ডার।
ফুটবল সংশ্লিষ্টদের মতে, এমন আচরণ পেশাদার ক্রীড়াঙ্গনের জন্য অত্যন্ত হতাশাজনক। একটি ক্লাব মৌখিকভাবে সম্মতি দেওয়ার পর শেষ মুহূর্তে কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই সরে দাঁড়ানো একজন খেলোয়াড়ের ক্যারিয়ারে বড় ধাক্কা দিতে পারে।
মুস্তাফিজের ঘটনার পর তারেক কাজীর সঙ্গে এমন আচরণ নতুন করে প্রশ্ন তুলছে, ভারতীয় ক্লাবগুলো কি সত্যিই বাংলাদেশি খেলোয়াড়দের পেশাদার মর্যাদা দিচ্ছে? নাকি বারবার অবহেলা ও অনিশ্চয়তার মধ্যেই পড়তে হচ্ছে তাদের?
এই ঘটনার পর বাংলাদেশ ফুটবল অঙ্গনেও তৈরি হতে পারে ক্ষোভ ও হতাশা। একইসাথে ভারত বাংলাদেশ সম্পর্কেও নতুন করে বিতর্ক তৈরি করবে, তাতে নেই সন্দেহ। এমন আচরণ নিসন্দেহে ভারতের হীতাহীত জ্ঞানহীনতাই প্রমাণ করবে।




