“বাপের ছেলে, সিপাহীর ঘোড়া, সব না শিখলেও কিছু তো শিখবে”। হিন্দি বিখ্যাত প্রবাদের বাংলা অনুবাদ করলে দাঁড়ায় এটা।
সেই প্রবাদের প্রতিফলনটাই দেখা যায় রোনালদো পরিবারে। রোনালদো নিজে এখনও জাতীয় দলের হয়ে প্রবীন সদস্য, পর্তুগালের হয়ে অর্জনে শেষের দিকে।
অপরদিকে বাবা যেখান থেকে করেছেন শেষ, সেখান থেকেই শুরু রোনালদো পুত্র রোনালদো জুনিয়ারের।
২০২৫ সালে একই বছরে পর্তুগালের জার্সি গায়ে জড়িয়ে দুইজনের কাছে এসেছে শিরোপা।
বাবা ক্রিশ্চিয়ানো জয় করেন ইউরোপের অন্যতম সেরার আসর ন্যাশনস কাপ। সেখানে ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে মুল ম্যাচ ২-২ গোলে ড্র করে পর্তুগাল দল, এরপর টাইব্রেকে জয় পায় তারা। সে আসরের ফাইনালে গোলও করেন রোনালদো।
এমনকি আসরে ৯ ম্যাচে করেন ৮ গোল, পান সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরষ্কার।
একই বছরই আবার শিরোপা জয় করেন রোনালদো জুনিয়ার। সেখানে একটা নয়, দুই দুইটি শিরোপা আসে তার পর্তুগালের জার্সি গায়ে।

মাত্র ৬ মাসের ব্যাবধানে দুটি আলাদা দলের হয়ে জাতীয় দলে মেলে সাফল্য। প্রথমে সাফল্য পান ২০২৫ সালের মে মাসে অনুর্দ্ধ ১৫ পর্তুগাল দলের হয়ে শিরোপা জিতে। এরপর নভেম্বর ডাক পান অনুর্দ্ধ ১৬ দলে। সেখানেও জয় করেন শিরোপা। গত বছর যেন শিরোপা জয়ের উজ্জাপন ভালোভাবে চলেছে রোনালদো পরিবারে।
সেখানেই তাই প্রশ্ন, বাবার লিগ্যাসি ধরতে পারবেন কিনা রোনালদো জুনিয়ার। সর্বকালের সেরার লড়াইয়ে প্রশ্ন থাকবে, তবে পর্তুগালের সেরার নামটা রোনালোদই।
বর্তমানে জেনারশনের বিচারে সেখানে তো আর কোন প্রতিদ্বন্দ্বিতাই আসেনা। তবে রোনালদোর সময়টা শেষ হয়ে যাচ্ছে।
সর্বোচ্চ এই বছরটাই বোধহয় আন্তজার্তিক ক্যারিয়ার খেলবেন রোনালদো, এরপর বুটজোড়া তুলে নিবেন বিদায়। এরপর তার রেখে যাওয়া দায়িত্বই কি নিতে পারবেন রোনালদো জুনিয়ার?
বাবার ডিএনএ পেয়েছেন, পেয়েছেন তার কোচিংও। সুর্য্যের আলোয় আলোকিত চাদটাও দীর্ঘক্ষণ আলো দিয়ে দিতে পারে।
আবার অনেক সময় তো মোমের অল্প আগুণের উৎস এনে দিতে পারে বড় স্ফুলিঙ্গ। রোনালদো জুনিয়ার এই দুইয়ের যেদিকেই যাবেন, তাতেই উপকৃত হবে পর্তুগাল হবে। তবে এইসবের মাঝে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে না পেরে যদি অঙ্গার হয়ে যান, তবে আশা হারিয়ে বিপদের মাঝেই পড়বে পর্তুগাল।




