ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই গৌরব, স্বপ্ন আর ইতিহাস গড়ার মঞ্চ। তবে বিশ্বকাপের ইতিহাসে এমন কিছু ঘটনাও আছে, যা ক্রীড়ার সীমা ছাড়িয়ে মানবিক ট্র্যাজেডির প্রতীক হয়ে উঠেছে। ১৯৭৪ বিশ্বকাপে কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র জাতীয় দলের অভিজ্ঞতা ছিল তেমনই এক ভয়াবহ অধ্যায়। টি-স্পোর্টসের অনলাইনে এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে সেই গল্প!
সেই বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো আফ্রিকার প্রতিনিধিত্ব করে অংশ নিয়েছিল জায়েয়ার। কিন্তু গ্রুপ পর্বে যুগোস্লাভিয়ার বিপক্ষে ৯-০ গোলের বিধ্বংসী পরাজয়ের পর দলের ওপর নেমে আসে চরম চাপ। তৎকালীন স্বৈরশাসক মোবুতু সেসে সেকোর সরকারের প্রতিনিধিরা খেলোয়াড়দের সরাসরি হুমকি দেন বলে পরে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে আসে।
খেলোয়াড়দের জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, পরবর্তী ম্যাচে ব্রাজিলের কাছে চার বা তার বেশি গোলের ব্যবধানে হারলে দেশে ফেরার সুযোগ থাকবে না। শুধু খেলোয়াড়রাই নন, তাদের পরিবারের সদস্যদেরও কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছিল। এমন হুমকির কারণে ব্রাজিল ম্যাচের আগে আতঙ্কে ছিল পুরো জায়েয়ার শিবির।
অন্যদিকে, দ্বিতীয় পর্বে ওঠার আশা বাঁচিয়ে রাখতে বড় ব্যবধানে জয়ের প্রয়োজন ছিল ব্রাজিলের। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে ৩-০ গোলে এগিয়ে যায় সেলেসাওরা। অর্থাৎ আর মাত্র একটি গোল হলেই জায়েয়ারের জন্য পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারত।
এমন সংকটময় মুহূর্তেই ঘটে বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত ঘটনা। ব্রাজিল একটি বিপজ্জনক ফ্রি-কিক পেলে কিংবদন্তি রিভেলিনো শট নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ঠিক তখনই জায়েয়ারের ডিফেন্ডার এমওয়েপু ইলুঙ্গা হঠাৎ দেয়াল থেকে বেরিয়ে এসে বলটি দূরে লাথি মেরে পাঠিয়ে দেন।
দীর্ঘদিন ধরে এই ঘটনাকে ফুটবল বিশ্বের অনেকেই নিয়ম না জানার উদাহরণ হিসেবে দেখিয়েছেন। তবে পরে ইলুঙ্গা নিজেই জানান, বিষয়টি মোটেও নিয়ম না জানার কারণে ছিল না। বরং দলের ওপর থাকা ভয়ঙ্কর চাপ, প্রাণনাশের আশঙ্কা এবং আরও গোল হজম ঠেকানোর মরিয়া চেষ্টাই তাকে এমন পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করেছিল।
শেষ পর্যন্ত ব্রাজিল ৩-০ ব্যবধানে জয় পেলেও চার গোলের ব্যবধান গড়তে পারেনি। ফলে ভয়াবহ পরিণতির আশঙ্কা থেকে রক্ষা পায় জায়েয়ার দল।




