আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরায়েলের অন্যতম ঘনিষ্ঠ সমর্থক হিসেবে পরিচিত আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই ইসরায়েলের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননাগুলোর একটি ‘প্রেসিডেন্সিয়াল মেডেল অব অনার’ লাভ করেছেন।
জেরুজালেমে আয়োজিত এক আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে তার হাতে এই পদক তুলে দেওয়া হয়,গত মাসেই।
ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের কার্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ইসরায়েলের প্রতি দৃঢ় সমর্থন, গাজায় হামাসের হাতে জিম্মি হওয়া পরিবারগুলোর প্রতি সংহতি প্রকাশ এবং ইহুদি জনগণের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক গড়ে তোলার স্বীকৃতিস্বরূপ মিলেইকে এ সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে।
ক্ষমতায় আসার পর থেকেই আর্জেন্টিনার পররাষ্ট্রনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেন হাভিয়ের মিলেই।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যুতে তিনি প্রকাশ্যে ইসরায়েলের পক্ষে অবস্থান নেন এবং দুই দেশের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করার উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
ফলে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে এই সম্মাননা পাওয়াকে অনেকেই দুই দেশের ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক সম্পর্কের প্রতীক হিসেবে দেখছেন।
তবে রাজনৈতিক এই ঘটনা কেবল কূটনৈতিক অঙ্গনেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
বিশ্বকাপ কিংবা বড় কোনো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট এলেই বাংলাদেশে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের উন্মাদনা চোখে পড়ার মতো। কিন্তু ইসরায়েল-ফিলিস্তিন ইস্যুতে আর্জেন্টিনা সরকারের অবস্থান নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন বিতর্কের জন্ম হয়েছে।
ফিলিস্তিনপন্থী কিছু সমর্থক মনে করছেন, বর্তমান আর্জেন্টাইন সরকারের ইসরায়েলঘনিষ্ঠ অবস্থান তাদের আবেগে প্রভাব ফেলছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে প্রশ্ন তুলছেন, রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে জাতীয় দলের প্রতি সমর্থনের মাত্রা কমে যেতে পারে কি না।
অন্যদিকে অনেক ফুটবলপ্রেমীর মতে, রাজনীতি ও ফুটবলকে এক করে দেখা উচিত নয়।
তাদের যুক্তি, আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দলের প্রতি সমর্থন গড়ে উঠেছে দলটির ইতিহাস, সাফল্য, খেলোয়াড়দের নৈপুণ্য এবং ফুটবল ঐতিহ্যকে কেন্দ্র করে। তাই সরকারের রাজনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে মাঠের ফুটবলকে মেলানো ঠিক হবে না।
সব মিলিয়ে, ইসরায়েলের কাছ থেকে হাভিয়ের মিলেইয়ের এই সম্মাননা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে যেমন গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে, তেমনি ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যেও নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।




