জাতীয় দলের হয়ে খেলেছেন ১৪ টেষ্ট, আছে মোট ৪৮ উইকেট। ডাক পেয়েছেন বাংলাদেশের পরবর্তী টেষ্ট ম্যাচেও, আছে একাদশে সুযোগের বড় সম্ভাবনা। এমন একজন রানিং খেলোয়াড় হয়ে থাকেন সবার নয়নের মনি। অথচ সেই খেলোয়াড়কে বিনা কারণে আঘাত করেন পুলিশ অফিসার।
ঘটনার সুত্রপাত গত শুক্রবার রাতে। প্রিমিয়ার লীগের ম্যাচ খেলতে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় আসেন নাইম হাসান। সেখানে অবশ্য কিছুটা বিলম্ব হয় তার ফ্লাইট। তবে ৯.৪০ এর ফ্লাইটে পৌছে যান ৪০ মিনিটের মাঝে।
এরপর ঢাকায় এসে সিএনজি নেন নাইম। লালখান বাজার ফ্লাইঅভারে রাত ১২ টায় দাড় করায় নাইমের সিএনজি। এরপর চেকিং এর উদ্দেশ্যে নেওয়া হয় তার ব্যাগ। নাইমও স্বেচ্ছায় দেন তার ব্যাগ। এরপর সেখান থেকেই শুরু হয় নাইমের উপর নির্যাতন
নাইমের ভাষ্যমতে, সেখান থেকেই তাকে বলা হয় পুলিশের গাড়িতে উঠতে। এমনকি তাকে তুই তোকারিও করা হয় বেশ। এক পর্যায়ে তার গলা চেপে ধরা হয়। এছাড়া পুলিশের গাড়ির বদলে অন্য গাড়িতে ওঠার কথাও বলা হয় নাইমকে। যাতে গুমের ঘটনার উল্লেখ পান নাইম।
এরপর প্রতিবাদে সরে আসেন নাইম হাসান। নিজের পরিচয় জানান, দেন জাতীয় দলের আইডি কার্ড। তবে কাজের কাজ হয়নি। আসামীদের বর্ণনা দেন তিনি। সাদা পাঞ্জাবি পড়া এক পুলিশ তার উপর শারীরিকভাবে অত্যাচার চালায় বলে জানান তিনি। সেখানে পাইপ দিয়েও তাকে আঘাত করা হয়, এটাও বলেন তিনি।
পরবর্তীতে এমন ঘটনা দেখে এগিয়ে আসে আশেপাশের মানুষ। নাইমের মত তারকাকে চিনতে অসুবিধা হয়নি তাদের। ফলে পুলিশকে চেপে রাখে তারা। এক পর্যায়ে লোকের চাপেই নাইমকে নেওয়া হয় থানায়। সেখানেই জড়ো হয় লোক, আসে সাংবাদিকরা। সেখান থেকেই নিজের উপর হওয়া এই ঘটনা বর্ণনা করেন এই অফস্পিনার।
আটকের পর নাইমের ফোনও করা হয় চেক। এমনকি বাবা মাকেও কল দিতে দেওয়া হয়না ঠিকভাবে। এত তারকাখ্যাতি একজনের এমন কিছু হওয়া মেনে নিতে পারছেননা নাইম। একইসাথে এটাও জানান, তার জায়গায় অন্য কেউ হলে এগিয়ে আসত না তেমন মানুষ, এমনকি বড় মিডিয়া। ফলে ভুক্তভোগী হতে হত অনেক পুরষ্কার। আর সেখানেই যেন পুলিশের বাস্তব অবস্থা তুলে ধরেন এই অলরাউন্ডার। যে দেশে স্বচ্ছ তারকা খেলোয়াড়ও এখন নিরাপদ নয় পুলিশের অন্যায় আচরণ থেকে। দেশের সব পরিবর্তন হলেও পরিবর্তন নেই তাদের কোন।




