বিশ্বকাপ আসলে ব্রাজিলিয়ানরা মেতে উঠেন গলাবাজিতে। কখনও তারকাদের নিয়ে উচ্চবাক্য, আবার কখনও তা থাকে বেঞ্চ নিয়ে। এবার কোচ নিয়ে গলাবাজি ছিল ব্রাজিল দলের। তবে সেই গলাবাজি টিকলোনা বেশিক্ষণ। বিশ্বকাপের শুরুর ম্যাচেই ব্রাজিল ফ্যানদের মাটিতে নামিয়ে আনলেন তাদের কোচ। বুঝিয়ে দিলেন, স্কালোনি থেকে তিনি আছেন অনেক দুরত্বে।
বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হতে কার্লোকে আনে ব্রাজিল, বানাতে চায় নিজেদের স্কালোনি। তবে কখনও শিরোপা না জেতা এমনকি ফাইনাল না খেলা দলকেই পরাস্ত করতে ব্যার্থ সেলেসাওরা। শুরুর ম্যাচে কাজে লাগেনি কার্লোর কোন ট্যাক্টিক্স। স্কোয়াড সেলেকশনে যাদের ডেকেছেন শেষ মুহুর্তে, সেই ইবনেজ বা থিয়াগো এনেছেন মারাত্মক পর্যায়ের বিপর্যয়। পাকুয়েতা জ্বলে উঠেননি। ক্লাবে পারফর্ম করা রাফিনহাকেও ব্যাবহার করতে পারেননি কোচ। সব মিলিয়ে হযবরল অবস্থা দলের।
যে হযবরল অবস্থা ফুটে উঠেছে মরোক্কোর বিপক্ষে ম্যাচে। পুরো ম্যাচে ব্রাজিলের বিপক্ষে দাপুটে ফুটবলই খেলে মরোক্কো। দেখে মনেই হয়নি এই মরোক্কো আগে জয় করেনি বিশ্বকাপ, এমনকি যায়নি আসরের ফাইনালেও। অপরদিকে ব্রাজিলকে দেখেও মনে হয়নি তারা বিশ্বকাপের সবচেয়ে সফল দল, আবারো এসেছে হেক্সা নিয়ে। তাদের ডাগআউটে দাঁড়িয়ে আছেন বিশ্বের সবচেয়ে দামী কোচ, যাকে নিয়ে গর্ব তাদের ভক্তদের।
অনেকটা অচেনা হয়ে এসে নিজেকে কিভাবে চিনাতে হয়, সেই কাজটা করেন স্কালোনি। ব্রাজিলকে হারিয়ে কোপা আমেরিকা জয় করেন। বিশ্বকাপ জিততে একে একে হারান নেদারল্যান্ডস, ক্রোয়েশিয়া, ফ্রাঞ্চের মত দলকে। যাদের কেউ আসরের সাবেক চ্যাম্পিয়ন, কেউ আসরের সাবেক ফাইনালিস্ট। আন্ডারডগ আর্জেন্টিনাকে করে তোলেন বিশ্বের সেরাদের কাতারে
মাঝমাঠে কাল স্কালোনির ট্যাক্টিক্সেই মাঠে নামতে চেয়েছেন কার্লো। তবে তার মিডফিল্ডাররা নিজেকে মেলে ধরতে পারেনা মোটেও। একইসাথে মাঝমাঠে বড় নামের এদিকে ঝোকেন কার্লো। স্কালোনির মত বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার করছেন না সাহস,একইসাথে ফলও আসছেনা নিজেদের পক্ষে।
কার্লোর ব্রাজিল কেমন করবে বিশ্বকাপে, তা জানতে আরো অপেক্ষা করতে হবে। তবে শুরুটা যেমন হলো, সেটা মোটেও চ্যাম্পিয়ন হবার মত কোন দুর্দান্ত প্রদর্শনী নয়। আর সেখানেই স্কালোনি হওয়া যে সহজ নয় যেকারো জন্য, সেটাই প্রমাণিত হয়ে গেলো আরো একবার। ক্লাবে সফল হলেও জাতীয় দলের ক্ষেত্রে স্কালোনির থেকে কার্লো এখনও দূরে যোজন যোজন।




