কার্লো আনচেলত্তির একাদশ ঘোষণায় ছিল বেশ কিছু চমক। তবে ম্যাচের শুরুতে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি মাঠে। বরং শুরু থেকেই ব্রাজিলের ওপর চাপ সৃষ্টি করে মরক্কো। ষষ্ঠ মিনিটেই গোলের সুবর্ণ সুযোগ তৈরি করেছিল আফ্রিকার প্রতিনিধিরা। তবে ব্রুনো গিমারায়েসের সময়োপযোগী হস্তক্ষেপে সে যাত্রায় রক্ষা পায় সেলেসাওরা।
অন্যদিকে আক্রমণে ওঠেও সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয় ব্রাজিল। ১৩ ও ১৮ মিনিটে পরপর দুটি দারুণ আক্রমণ থেকে গোলের সুযোগ পেয়েও ইগর থিয়াগো লক্ষ্যভেদ করতে পারেননি। ২০তম মিনিটে রাফিনিয়ার পাস থেকে ভিনিসিয়ুসও গোলের কাছাকাছি পৌঁছেছিলেন, কিন্তু আশরাফ হাকিমির দৃঢ় রক্ষণে হতাশ হতে হয় তাকে।
ক্রমাগত চাপের মধ্যেই ম্যাচে এগিয়ে যায় মরক্কো। ব্রাজিলের একটি কর্নার কিক থেকে দ্রুত পাল্টা আক্রমণে ওঠে তারা। সেলেসাওদের হাই-লাইন ডিফেন্সের ফাঁক কাজে লাগিয়ে বল জালে পাঠান ইসমাইল সাইবাড়ি। প্রথমার্ধের ড্রিংক্স ব্রেকের আগেই ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় মরক্কো।
তবে পিছিয়ে পড়ার পর ঘুরে দাঁড়াতে বেশি সময় নেয়নি পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। প্রথমার্ধের শেষদিকে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র নিজের ব্যক্তিগত দক্ষতার ঝলক দেখিয়ে সমতায় ফেরান দলকে। কয়েকজন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে দুর্দান্ত গতির শটে গোলরক্ষক বুনুকে পরাস্ত করেন রিয়াল মাদ্রিদ তারকা। তার সেই দৃষ্টিনন্দন গোলে ১-১ সমতা নিয়েই বিরতিতে যায় দুই দল।
দ্বিতীয়ার্ধে একাধিক পরিবর্তন এনে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন আনচেলত্তি। ক্যাসেমিরোর পরিবর্তে ফ্যাবিনহো এবং পরে লুকাস পাকুয়েতা ও ইগর থিয়াগোর জায়গায় লুইস এনরিকে ও ম্যাথেউস কুনিয়াকে নামানো হয়। এরপর বেশ কয়েকটি সম্ভাবনাময় আক্রমণ গড়ে তোলে ব্রাজিল। রাফিনিয়া একাধিকবার গোলের সুযোগ পেলেও শেষ মুহূর্তে সফল হতে পারেননি।
ফলে শেষ পর্যন্ত আর কোনো দলই জয়ের দেখা না পাওয়ায় ১-১ গোলের সমতায় শেষ হয় দুই শক্তিশালী দলের লড়াই। মরক্কোর বিপক্ষে জয় না পেলেও ভিনিসিয়ুসের অনবদ্য পারফরম্যান্স ব্রাজিল শিবিরকে স্বস্তির পয়েন্ট এনে দিয়েছে।




