দেশের ক্রিকেটে একটা সমস্যার কথা শোনা গিয়েছিল প্রায়ই। আর সেটা দেশের ক্রিকেট বিকেন্দ্রীকরণের কথা। দীর্ঘদিন ধরে মিরপুর ও চট্টগ্রামেই আটকা ছিল দেশের ক্রিকেট।
ছোট বড় সব ম্যাচই আয়োজন হত এই জায়গায়, ফলে বঞ্চিত হত অন্যসব বিভাগ। তবে এবার সেই জায়গা থেকে সরে আসছে বিসিবি। জানা যাচ্ছে আগামী এনসিএলে একদম ভিন্ন দুই জায়গায় ম্যাচ দিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড।
আর সেখানেই আলোচনা বরিশাল ও খুলনা স্টেডিয়াম।
বরিশালের জীবনানন্দ দাশ স্টেডিয়ামকে ঘিরে আলোচনা অনেক আগেই থেকে। দীর্ঘদিন ধরে চলছিল এই স্টেডিয়ামের সংস্কারের কাজ।
এছাড়া বর্তমানে ফ্লাডলাইডও বসানো হয়েছে এই স্টেডিয়ামে। এর বাইরেও সাম্প্রতিক সময়ে স্টেডিয়াম উন্নয়নে দারুণ এক পদক্ষেপ নিয়েছে বিসিবি।
সেখানে মিরপুর হোম অফ ক্রিকেটের দায়িত্বে থাকা কিউরেটরকে সরাসরি পাঠানো হয়েছে বরিশালে।
বরিশাল স্টেডিয়ামের দেখভাল ও ভালো মানের পিচ তৈরির জন্য বিসিবির থেকে নেওয়া হয়েছে এই সিদ্ধান্ত। আর সেখানে টনি হেমিংকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মিরপুরের জন্য।
তখনই ধারণা করা যাচ্ছিল শীঘ্রিই বড় কিছু আসছে বরিশাল স্টেডিয়ামে। আর সেটাই এবার হলো খোলাসা
একাধিক সুত্র থেকেই বলা হয়েছে এমন সংবাদ। বিপিএল না হলেও এনসিএল টি২০ আয়োজনটা ভালোভাবেই করতে চায় বিসিবি।
আর সেখানেই ভেন্যু ছড়িয়ে দিতে চায় তারা। ঢাকা ও চট্টগ্রামে গথবাধা আয়োজন না করে খুলনা ও বরিশালেই আসরটা সম্পন্ন করতে চাইছে ক্রিকেট বোর্ড।
এতে করে বেশ কয়েকদিকেই হবে উপকার। একদিকে বরিশাল ও খুলনা ক্রিকেট তাদের রঙ ফিরে পাবে। দুই অঞ্চলেই বাড়বে ক্রিকেটের উন্মাদনা।
ফলে আর্থিক ভাবে ও ক্রিকেটের দিক থেকে লাভবান হবে বিসিবি। আর অন্যদিকে আগামীতে বিপিএল হলে হোম এন্ড এওয়ের জন্য দাবি দেওয়া যাবে।
কারণ এমনিতেই ঢাকা, সিলেট ও চট্টগ্রাম তিন স্টেডিয়ামে নিয়মিত আয়োজিত হয় বিপিএল। এবার এনসিএলের সফল আয়োজন হলে খুলনা ও বরিশালও যুক্ত হবে সেখানে। বগুড়া ও রাজশাহীতেও নিয়মিত হয় ক্যাম্প ও বয়সভিত্তিক দলের ম্যাচ। সব মিলিয়ে তাই ৬ বিভাগেই বিপিএল হবে আয়োজনের জন্য প্রস্তত।
সবকিছু মিলিয়েই দারুণ এক সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের। এবার এই সিদ্ধান্তের চুড়ান্ত বাস্তবায়ন হওয়া বাকি। আর সেটা যেমন খুলনা ও বরিশালবাসীর জন্য আনন্দের হবে, তেমনি দেশের ক্রিকেট ভক্তদের জন্যও হবে দারুণ এক সুসংবাদ।




