বিপিএলের গত দুই আসরজুড়েই ছিল নানা বিতর্ক। মাঠের ক্রিকেটের পাশাপাশি আয়োজন, ফ্র্যাঞ্চাইজি, সূচি ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে সমালোচনাও কম হয়নি।
এসব অভিজ্ঞতা থেকেই এবার তড়িঘড়ি করে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ আয়োজন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড।
বোর্ডের পরিকল্পনা, প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষে আগামী বছর আরও গোছানোভাবে মাঠে ফেরানো হবে দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি আসরটি।
তবে বিপিএল না হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে এবার কিছুটা ক্ষোভ ও বিস্ময় প্রকাশ করেছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। সবচেয়ে বড় চমক, এত বড় একটি সিদ্ধান্তের কথা তিনি আগে থেকে জানতেন না বলেই জানিয়েছেন।
রোববার একটি অনুষ্ঠানে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বিপিএল এবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে না,এমন খবর শুনে আমিনুল হক বলেন, তিনি বিষয়টি গণমাধ্যমকর্মীদের কাছ থেকেই প্রথম জানতে পেরেছেন।
তার এই মন্তব্য ঘিরেই তৈরি হয়েছে নতুন আলোচনা। তাহলে কি বিপিএল নিয়ে বিসিবির সিদ্ধান্তের সঙ্গে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ের ঘাটতি রয়েছে?
প্রশ্ন উঠছে, আমিনুল হক ও বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল কি এই ইস্যুতে মুখোমুখি অবস্থানে চলে যাচ্ছেন?
বিপিএলের মতো জনপ্রিয় ও গুরুত্বপূর্ণ একটি টুর্নামেন্ট নিয়মিত আয়োজনের পক্ষে মত দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। তার মতে, দেশের ক্রিকেটের স্বার্থে এমন বড় আয়োজন প্রতিবছরই হওয়া উচিত। কেন এবার বিপিএল হচ্ছে না, সেটি নিয়ে আলোচনা প্রয়োজন বলেও জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের টুর্নামেন্ট যেন ধারাবাহিকভাবে আয়োজন করা হয়, সেদিকে নজর রাখার কথাও বলেছেন আমিনুল।
অন্যদিকে, বিপিএল না করার সিদ্ধান্তে ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াবের সঙ্গে আলোচনা করেছে বিসিবি। দুই দফা বৈঠকের পর ঘরোয়া ক্রিকেটের বিভিন্ন সংস্করণে ম্যাচ ফি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর সিদ্ধান্তও নিয়েছে বোর্ড।
প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ম্যাচ ফি ৭০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা করা হয়েছে। ওয়ানডেতে ৫০ হাজার থেকে বেড়ে হয়েছে ১ লাখ এবং টি-টোয়েন্টিতে ৪০ হাজার থেকে ৮০ হাজার টাকা।
ফলে বিপিএল এবার না হলেও ঘরোয়া ক্রিকেট কাঠামো শক্তিশালী করার পরিকল্পনাতেই এগোচ্ছে বিসিবি। তবে প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের পর বোর্ডের সিদ্ধান্ত ও সরকারের অবস্থানের মধ্যে সমন্বয় নিয়ে যে নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, সেটিই এখন আলোচনার কেন্দ্রে।




