এশিয়ান গেমসের ক্রিকেটে এবার পূর্ণ শক্তির দল নিয়ে নামছে বাংলাদেশ। জাপানে অনুষ্ঠেয় এই আসরকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে দল ঘোষণা করা হয়েছে।
লিটন দাসের নেতৃত্বাধীন ১৫ সদস্যের দলে জায়গা পেয়েছেন জাতীয় দলের প্রায় সব অভিজ্ঞ ও প্রতিষ্ঠিত ক্রিকেটার। ফলে প্রত্যাশাটাও থাকছে বড়।
তবে টুর্নামেন্টের আগে বাংলাদেশের আবাসন ব্যবস্থা নিয়ে যে আলোচনা তৈরি হয়েছে, সেটিকে খুব একটা গুরুত্ব দিতে নারাজ প্রধান কোচ মোহাম্মদ সালাহ উদ্দীন।
তার কাছে ক্রিকেটাররা কোথায় থাকবেন বা কী ধরনের সুযোগ-সুবিধা পাবেন, তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো মাঠে দলের পারফরম্যান্স।
এশিয়ান গেমসের এবারের আয়োজনে থাকছে না প্রচলিত অ্যাথলেটস ভিলেজ। জাপানের আবাসন সংকটের কারণে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর জন্য হোটেলের পাশাপাশি ক্রুজশিপ ও অস্থায়ী কনটেইনারধাঁচের আবাসনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
এ নিয়ে নানা আলোচনা থাকলেও বাংলাদেশের কোচ মনে করছেন, এসব বিষয়কে কেন্দ্র করে মনোযোগ বিভ্রান্ত করার কোনো কারণ নেই।
সালাহ উদ্দীনের যুক্তি, অতীতে বাংলাদেশ অনেক ভালো সুযোগ-সুবিধা পেয়েও প্রত্যাশিত ফল অর্জন করতে পারেনি।
তাই এবার আবাসন নিয়ে বাড়তি ভাবনার বদলে ক্রিকেটারদের মাঠের প্রস্তুতি ও পারফরম্যান্সেই মনোযোগী হতে চান তিনি।
তার ভাষায়, ‘আমরা তো অন্যান্য সময় খেলতে যাই। অনেক সুবিধা পাই। অনেক সময় তো ভালো ফল করি না। থাকাটা আমার কাছে খুব বড় একটা ব্যাপার না। আমরা দেশকে প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছি। আমরা ভালো খেলব।’
জাতীয় দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েও ব্যাখ্যা দিয়েছেন সালাহ উদ্দীন। শুরুতে এশিয়ান গেমসের জন্য এইচপি দল পাঠানোর পরিকল্পনা ছিল বাংলাদেশের।
কিন্তু প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর শক্তিশালী স্কোয়াড বিবেচনায় নিয়ে শেষ পর্যন্ত জাতীয় দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কোচের চোখে এটি দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিযোগিতামূলক সুযোগ।
লিটনের নেতৃত্বাধীন দলে ব্যাটিং বিভাগে আছেন তানজিদ হাসান, পারভেজ হোসেন ইমন, তাওহীদ হৃদয় ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত।
স্পিন আক্রমণে রিশাদ হোসেন, নাসুম আহমেদ ও শেখ মেহেদী হাসানের ওপর থাকবে দায়িত্ব। পেস বিভাগে রয়েছেন মোস্তাফিজুর রহমান, হাসান মাহমুদ ও শরীফুল ইসলাম।
সালাহ উদ্দীনের মতে, এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের সামনে ফাইনালে ওঠার বাস্তব সুযোগ রয়েছে।
তবে তার জন্য শুরু থেকেই ধারাবাহিক ও নিয়ন্ত্রিত ক্রিকেট খেলতে হবে।
নিসশিনের কোরোগি স্পোর্টস পার্কে ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত হবে পুরুষদের ক্রিকেট। ‘এ’ গ্রুপে জাপান, আফগানিস্তান ও নেপাল এবং ‘বি’ গ্রুপে হংকং, ওমান ও মালয়েশিয়া লড়বে।
বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা সরাসরি কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা পেয়েছে। ২৯ সেপ্টেম্বর মাঠে নামবে বাংলাদেশ। গ্রুপ পর্ব শেষ হওয়ার পর নির্ধারিত হবে তাদের প্রতিপক্ষ।
এবার তাই বাংলাদেশের লক্ষ্য শুধু অংশগ্রহণ নয়; বরং শক্তিশালী দল নিয়ে এশিয়ান গেমসের মঞ্চে নিজেদের সামর্থ্যের যথাযথ প্রতিফলন ঘটানো।




