সর্বকালের সেরা লেফট ব্যাক হিসেবে ধরা হয় ব্রাজিলের রবার্তো কার্লোসকে। সেই রবার্তো কার্লোস তাকে নিয়ে বলেছিলেন তার চেয়ে বেশি টেকনিক্যাল খেলোয়াড় মার্সেলো। এমনকি ম্যারাডোনা, পাওলো মালদিনিরা তাকে করেছেন প্রশংসা
ক্যারিয়ারে প্রধান পজিশন ছিল লেফট ব্যাক। তবে লেফট ব্যাকের চেয়েও অন্য পজিশনেও সাবলীলভাবে খেলতে পারতেন মার্সেলো। উইঙ ব্যাক বা উইঙেও খেলতে পারতেন মার্সেলো। এমনকি প্লেমেকার বা ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হিসেবেও খেলেছেন। এছাড়া মিডফিল্ডার বা প্লে মেকার হিসেবেও জুড়ি ছিল তার। তার ভার্সিটিলিটি, গতি, ড্রিবলিং, বল পায়ে দক্ষতার সাথে সবচেয়ে মনমুগ্ধকর ছিল তার ক্রস। অনেকে বলেন রোনালদোর ক্যারিয়ারের এত গোলের পিছনে সবচেয়ে বড় অবদান মার্সেলোর ক্রসের।
ঝাকড়া চুলের সেই মার্সেলোকে দেখা যাবেনা আর ফুটবল মাঠে। তর্ক সাপেক্ষে গত জেনারশনের সেরা লেফট ব্যাক মার্সেলো এবার দিলেন অবসরের ঘোষণা। নিজের এক অফিশিয়াল একাউন্টে এমন ঘোষণা দেন মার্সেলো।সেখানে তিনি জানান মাঠের ফুটবলকে এখনই বিদায় বলবেন মার্সেলো। এর সাথে জানালেন ফুটবলের জন্য কাজ করবেন তিনি। অর্থ্যাৎ আবারো অন্য পেশায় ফুটবলে ফেরার ইঙ্গিত দিলেন মার্সেলো।
ফ্লুমিনেসের যুব দলে থাকার সময় ১৮ বছর বয়সে তাকে ৮ মিলিয়ন ইউরোতে কিনে নেয় বিশ্বের সেরা ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদ। আর সেই রিয়াল মাদ্রিদে মার্সেলো কাটান মোট সাড়ে ১৫ বছর। মাদ্রিদের হয়ে মোট ৫০০ এর অধিক ম্যাচ খেলে করেন মোট ৩৮ গোল ও ১০৩ এসিস্ট । এর বাইর দলটির হয়ে ৫ বার চ্যাম্পিয়নস লীগ, একাধিকবার লা লীগা কোপা দেল রে সহ জয় করেন মোট ২৫ শিরোপা। সাড়ে ১৫ মৌসুম পর মাদ্রিদ ত্যাগ করেন মার্সেলো। এরপর অলিম্পিকয়সে কিছুদিন থাকলেও শেষমেশ আসেন ব্রাজিলের ক্লাব ফ্লুমিনেসে। আর সেখানেই থামে মার্সেলোর ফুটবল ক্যারিয়ার।
ক্লাবের মত অবশ্য জাতীয় দলে সেভাবে সফল ছিলেন না এই খেলোয়াড়। ব্রাজিলের হয়ে ৫৩ ম্যাচ খেলে ৬ বার বল জালে জড়ান। এর মাঝে একবার জয় করেন কনফেডারেশন কাপের শিরোপা। সব মিলিয়ে ক্লাব ও জাতীয় দলে সমৃদ্ধ ক্যারিয়ার আছে মার্সেলোর। মার্সেলোর ফুটবল মস্তিষ্ককে অন্যতম ক্ষুরধার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এবার মাঠের মত হয়ত কোচিংএ এসে মার্সেলো নিজেকে মেলে ধরবে। অন্তত তাকে নিয়ে সবসময়ই প্রত্যাশা থাকবে ফুটবল ভক্তদের।




