গত আসরে ছিলেন চেলসির সেরা খেলোয়াড়। প্রিমিয়ার লীগে করেছিলেন ২০ গোল এসিস্ট। এরপরও ব্রাজিলের বিশ্বকাপ দলে টিকিট মেলেনি জোয়াও পেদ্রোর। ব্রাজিলের স্কোয়াডে বাদ পড়াদের মাঝে আলোচিত নাম ছিল পেদ্রো। আর সেই বাদ পড়ার হতাশা থেকেই বোধহয় সুযোগ পেয়ে নিজের সবটা দিলেন এই স্ট্রাইকার।
চেলসির হয়ে প্রিসিজনে প্রথমবারের মত মাঠে নামেন পেদ্রো৷ ওয়েস্টার্ন সিডনির বিপক্ষে ৬৪ মিনিটে মাঠে নামেন এই ব্রাজিলিয়ান। সেখান থেকে যখন গোল করলেন, তখন দল পিছানো ৪-৩ গোলে। তবে এরপর পেদ্রোর গোলই হয়ে যায় ব্যাবধান। সেখানে একে একে করলেন ৩ গোল।
৮০ মিনিটে প্রথম গোল পান এই সেলেসাও স্ট্রাইকার। ৮৫ মিনিটে নিজের গোল সংখ্যা ডাবল করেন তিনি, দলকে এনে দেন লিড। ৮৯ মিনিটে করেন দলের ষষ্ঠ গোল, দলকে পুরোপুরি জিতিয়ে ছাড়েন মাত্র। ৮০ থেকে ৮৯, পেদ্রোর হ্যাট্রিক করতে সময় লাগে এই মাত্র ৯ মিনিট।
শুধু গোল না, ম্যাচে এক এসিস্টও করেন পেদ্রো৷ মাঠে নামার দুই মিনিট পর বামদিক থেকে একাধিক খেলোয়াড়কে কাটিয়ে বক্সে যান পেদ্রো, এরপর ফ্রি থাকা গিটেনসকে বাড়ান বল। সেখান থেকে দল পায় তৃতীয় গোল। এরপর ডিবক্সে গিটেন্সের থেকেই বল পান পেদ্রো। সেই বল কন্ট্রোলে নিয়ে ঠান্ডা মাথায় আনেন নিজের কাছে। এরপর ডান পায়ে ঠান্ডা মাথায় বল জড়ান জালে।
৮৫ মিনিটে পেদ্রোকে দেওয়া হয় দুরপাল্লার থ্রু বল। সেখানে সবাইকে কাটিয়ে বল পান পেদ্রো। এরপর সেটাও নিজের ডান পায়ে এনে নিয়ন্ত্রণে নেন। সেখান থেকে আরো একবার বোকা বানান গোলরক্ষককে।
৮৯ মিনিটে বক্সে ক্রস আসে পেদ্রোর কাছে। আর সেই ক্রস থেকে বল পান পেদ্রো। বক্সের ভিতর জটলা থেকে বের করেন স্পেস। এরপর সেই বল জড়ান জালে। আর তাতেই পুর্ণ করেন হ্যাট্রিক।
গত মৌসুমে চেলসির হয়ে ২৬ গোল করেন পেদ্রো। এবার ক্লাবে মৌসুম শুরুর আগেই করছেন হ্যাট্রিক। পেদ্রো যেন থামাতেই পারছেন না নিজেকে। কিন্ত এতকিছুর পরেও থেকে গেলো একটা দাগ। আর সেটা বিশ্বকাপ না খেলার আফসোসের দাগ।
গত বিশ্বকাপে ব্রাজিল হেরেছিল সহজ সুযোগ মিসে। পেদ্রো সেখানে দেখালেন কিভাবে সুযোগ লাগাতে হয় কাজে। আর তাই এই ম্যাচ ব্রাজিল ভক্তদের আফসোস বাড়াচ্ছে পেদ্রোকে ঘিরে। হয়তবা পেদ্রো থাকলে বিশ্বকাপের ফল অন্যরকম হলেও হতে পারত সেলেসাওদের।




